
সংস্কার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে প্রায় সাড়ে আট মাস আলোচনায় থাকার পর আবার রাজপথমুখী হয়েছে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো। নভেম্বরে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ তিন পক্ষই মাঠে কর্মসূচি নিয়ে নেমেছে। একদিকে নির্বাচনের প্রস্তুতি, অন্যদিকে সংস্কার বাস্তবায়ন নিয়ে মতভেদ—সব মিলিয়ে রাজনীতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।
গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর দেশে গঠিত হয় জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। এই কমিশন ৩০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে প্রণয়ন করে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’। অধিকাংশ দল এতে সই করলেও সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে একমত হতে পারেনি তারা।
এ অবস্থায় বিএনপি ও জামায়াত নিজেদের আলাদা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
১১ নভেম্বর ঢাকায় সমাবেশ করবে জামায়াতসহ আটটি ইসলামপন্থী দল, যাদের দাবি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও নভেম্বরের মধ্যেই গণভোট আয়োজন। বিপরীতে বিএনপি চাইছে, আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হোক।
বিএনপি ইতিমধ্যে ২৩৭ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে এবং ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে সারা দেশে শোভাযাত্রা করেছে। এসব কর্মসূচিতে দেখা গেছে নির্বাচনী আমেজ ও ধানের শীষের পোস্টার-ব্যানার।
অন্যদিকে জামায়াত ১১ নভেম্বর রাজপথে ‘লাখো মানুষের সমাবেশ’ করার ঘোষণা দিয়েছে। তাদের সঙ্গে রয়েছে ইসলামী আন্দোলন, খেলাফত মজলিস, জাগপা, নেজামে ইসলাম পার্টি, ডেভেলপমেন্ট পার্টি ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনসহ আরও সাতটি ইসলামপন্থী দল। তারা গণভোট আগে করার দাবি তুলেছে।
এদিকে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগও ১৩ নভেম্বর ঢাকায় ‘লকডাউন কর্মসূচি’ ঘোষণা করেছে। কারণ, ওই দিন শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আশঙ্কা করছে, এই সময়টায় রাজপথে সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, বিএনপি ও জামায়াতের বিপরীতমুখী অবস্থানের সুযোগ নিতে পারে আওয়ামী লীগ। আবার আওয়ামী লীগ সক্রিয় হলে বিরোধী জোটগুলো আরও একতাবদ্ধ হতে পারে। ফলে নভেম্বরের শুরুতেই রাজনীতি ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
সব মিলিয়ে ৭, ১১ ও ১৩ নভেম্বরের ধারাবাহিক কর্মসূচি রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে সংবেদনশীল সময় তৈরি করেছে। দলগুলো নিজেদের দাবি আদায়ে রাজপথে শক্তি প্রদর্শনের প্রতিযোগিতায় নেমেছে, আর এর মধ্যেই এগিয়ে আসছে জাতীয় নির্বাচনের সময়সূচি।